Blog

শিশুর ইউরিন ইনফেকশন নিয়ে চিন্তিত জেনে নিন করণীয় কী কী

হেলথ টিপস
শিশুদের মধ্যে ইউরিন ইনফেকশন বা মূত্রনালির সংক্রমণ একটি সাধারণ কিন্তু অবহেলিত স্বাস্থ্য সমস্যা। সময়মতো শনাক্ত ও চিকিৎসা না হলে এটি কিডনির জটিলতা পর্যন্ত সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসকদের মতে, নবজাতক থেকে শুরু করে স্কুলগামী শিশুরাও ইউরিন ইনফেকশনে আক্রান্ত হতে পারে। তবে শিশুরা তাদের সমস্যার কথা স্পষ্টভাবে বলতে না পারায় অনেক সময় রোগটি ধরা পড়ে দেরিতে।

ইউরিন ইনফেকশনের লক্ষণ কী?

শিশুর বয়সভেদে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ লক্ষণগুলো হলো—

  • প্রস্রাবের সময় জ্বালা বা ব্যথা
  • ঘন ঘন প্রস্রাবের চাপ
  • প্রস্রাবের রং ঘোলাটে বা দুর্গন্ধযুক্ত হওয়া
  • জ্বর (বিশেষ করে কারণ ছাড়া জ্বর)
  • তলপেটে বা পিঠে ব্যথা
  • নবজাতকের ক্ষেত্রে দুধ না খাওয়া, বমি বা অতিরিক্ত কান্না

কেন হয় ইউরিন ইনফেকশন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর ইউরিন ইনফেকশনের পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ রয়েছে—

  • পর্যাপ্ত পানি না পান করা
  • দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখা
  • অপরিচ্ছন্ন টয়লেট ব্যবহার
  • ভুলভাবে পরিষ্কার করা (বিশেষ করে কন্যাশিশুর ক্ষেত্রে)
  • জন্মগত মূত্রনালির সমস্যা

করণীয় কী?

চিকিৎসকরা শিশুর ইউরিন ইনফেকশন প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন—

১. দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন
শিশুর জ্বর বা প্রস্রাবে সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।

২. ইউরিন পরীক্ষা করান
ইউরিন আরই (R/E) ও কালচার পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণ নিশ্চিত করা জরুরি।

৩. পর্যাপ্ত পানি পান করান
বেশি পানি পান করলে জীবাণু প্রস্রাবের সঙ্গে বের হয়ে যেতে সাহায্য করে।

৪. পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
শিশুর গোপনাঙ্গ পরিষ্কার রাখতে হবে। কন্যাশিশুর ক্ষেত্রে সামনে থেকে পেছনের দিকে পরিষ্কার করার অভ্যাস জরুরি।

৫. প্রস্রাব চেপে রাখতে দেবেন না
নিয়মিত প্রস্রাবের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

৬. সম্পূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শেষ করুন
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ পুরো মেয়াদে খাওয়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

কখন বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন?

বারবার ইউরিন ইনফেকশন হলে বা ৫ বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে কিডনি পরীক্ষা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশেষজ্ঞদের মতামত

শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই শিশুকে ইউরিন ইনফেকশনের জটিলতা থেকে রক্ষা করতে পারে।

শিশুর সুস্থতা মানেই পরিবারের স্বস্তি—তাই ছোট লক্ষণকেও অবহেলা নয়।

Share this post

Leave a Reply