Blog

নবজাতকের চর্মরোগ হলে বাবা-মায়ের করণীয় কী?

**অনলাইন স্বাস্থ্য ডেস্ক**
নবজাতকের ত্বক অত্যন্ত নরম ও সংবেদনশীল। জন্মের পরপরই বা প্রথম কয়েক সপ্তাহে শিশুর ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় এগুলো স্বাভাবিক হলেও অবহেলা করলে জটিল আকার নিতে পারে। তাই নবজাতকের চর্মরোগ দেখা দিলে বাবা-মায়ের সচেতনতা ও সঠিক যত্ন অত্যন্ত জরুরি।

⭕ কেন নবজাতকের চর্মরোগ হয়?

বিশেষজ্ঞদের মতে, নবজাতকের ত্বক এখনও পুরোপুরি পরিণত না হওয়ায় বাইরের পরিবেশ, ঘাম, ময়লা, ডায়াপার ব্যবহার কিংবা অ্যালার্জির কারণে সহজেই চর্মরোগ দেখা দেয়। এছাড়া ফাঙ্গাল বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণও একটি বড় কারণ।

⭕ নবজাতকের সাধারণ চর্মরোগ
* ডায়াপার র‍্যাশ
* ঘামাচি
* মিলিয়া (মুখে সাদা দানা)
* একজিমা
* ত্বকের শুষ্কতা
* ফাঙ্গাল বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ

⭕ বাবা-মায়ের করণীয়

🩸 ত্বক পরিষ্কার ও শুষ্ক রাখা
প্রতিদিন কুসুম গরম পানিতে শিশুকে গোসল করাতে হবে। অতিরিক্ত সাবান ব্যবহার না করে নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে শরীর মুছে দিতে হবে।

🩸 নিরাপদ পণ্য ব্যবহার
শুধুমাত্র বেবি সাবান, বেবি লোশন বা তেল ব্যবহার করা উচিত। সুগন্ধিযুক্ত বা রাসায়নিকসমৃদ্ধ কোনো পণ্য শিশুর ত্বকে লাগানো উচিত নয়।

🩸 ডায়াপার ব্যবহারে সতর্কতা
ডায়াপার ভিজে গেলে দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে। ডায়াপার বদলের সময় ত্বক ভালোভাবে পরিষ্কার ও শুকনো রাখা জরুরি। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে র‍্যাশ প্রতিরোধক ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে।

🩸 পোশাক নির্বাচনে যত্ন
শিশুকে সবসময় নরম সুতি কাপড় পরাতে হবে। আঁটসাঁট বা সিনথেটিক কাপড় এড়িয়ে চলাই ভালো। নতুন পোশাক পরানোর আগে অবশ্যই ধুয়ে নিতে হবে।

🩸 ঘামাচি হলে করণীয়
শিশুকে অতিরিক্ত কাপড় না পরিয়ে ঠান্ডা ও বাতাস চলাচলকারী পরিবেশে রাখতে হবে। শরীরে ঘাম জমতে দেওয়া যাবে না।

🩸 কখন ডাক্তারের শরণাপন্ন হবেন?
* ত্বকের র‍্যাশ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে
* পুঁজ, ফোসকা বা রক্তপাত দেখা দিলে
* শিশুর জ্বর বা অতিরিক্ত কান্না হলে
* ঘরোয়া যত্নে ২–৩ দিনের মধ্যে উন্নতি না হলে

🩸 যেসব ভুল করা যাবে না
* নিজের ইচ্ছামতো ওষুধ বা স্টেরয়েড ক্রিম ব্যবহার
* বড়দের সাবান বা প্রসাধনী শিশুর ত্বকে লাগানো
* চর্মরোগকে হালকাভাবে নেওয়া

নবজাতকের চর্মরোগ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাময়িক হলেও সঠিক যত্ন ও সচেতনতা না থাকলে তা গুরুতর হতে পারে। তাই শিশুর ত্বকে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Share this post

Leave a Reply